বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
বিশ্বসেরা ৬০০-তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, র্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা আবারও
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের জোয়ার—যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (QS) প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দ্বিতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘QS World University Rankings 2026: Top Global Universities’ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এবার ৫৮৪তম।
বিশ্বের ১৫০১টি নামকরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থান পাওয়াটাই এক বিরাট সম্মান। দেশের শিক্ষাঙ্গনের প্রাচীনতম ও সবচেয়ে সম্মানজনক এই বিশ্ববিদ্যালয় আবারও প্রমাণ করল—আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরার যোগ্যতা তাদের রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় বৃহস্পতিবার।
এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও দেশসেরা হওয়ার মুকুট ধরে রাখল। গতবারও QS র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।
কীভাবে নির্ধারিত হয় এই অবস্থান?
QS র্যাঙ্কিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মান মূল্যায়নে ৯টি সূচকের উপর নির্ভর করে। প্রতিটি সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর ১০০, এবং গড় স্কোরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৮.৭০। একাডেমিক খ্যাতির সূচকে স্কোর ৩০.৫০, গবেষণার প্রভাব বা শিক্ষকপ্রতি গবেষণা উদ্ধৃতিতে স্কোর ৬.৯০ পেয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মানেও উজ্জ্বলতা
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে স্কোর ১০.৫০ এবং চাকরির বাজারে সুনামের ভিত্তিতে স্কোর ৫১.৩০। সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ফলাফল সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ৯৭—যা আন্তর্জাতিকভাবে বিশাল ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও টেকসই উন্নয়ন
আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ৫৭.৮০ স্কোর পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘সাসটেইনেবিলিটি’ বা স্থায়িত্ব সূচকে স্কোর ৫৪.২০ যা প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসে।
তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অনুপাতে স্কোর কিছুটা কম—১.৪০ ও ২.২০। এই জায়গাগুলোতে উন্নয়ন ঘটলে ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থান আশা করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্জন শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়—এটি গোটা বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত। প্রয়োজন এখন আরও গবেষণা, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও উদ্ভাবনী শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্মান যেন দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে করে আরও দৃঢ় ও উজ্জ্বল।